শিরোনাম

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আজ ৫ জুন, ২০২৪খ্রি. রাজধানীর শৈলপ্রপাত মিলনায়তন, পর্যটন ভবন, আগারগাঁও এ “বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক (গ্রেড-১), চেয়ারম্যান, বিসিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব কামরুন নাহার সিদ্দীকা, অতিরিক্ত সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জনাব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার দেব, চেয়ারম্যান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যনেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞ জনাব জাবেদ আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব আব্দুন নাসের খান, পরিচালক (বিপণন, নকশা ও কারুশিল্প), বিসিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিসিকের সম্মানিত পরিচালক (প্রশাসন) জনাব শ্যামলী নবী, বিসিকের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ, শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনাব শেখ আলী আশরাফ ফারুক, নকশাবিদ, বিসিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক (গ্রেড-১) প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। একইসাথে তিনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে রূপকল্প ২০৪১, শিল্প সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন এবং বিকাশে বিসিক সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই শিল্পগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবো।” এছারাও সম্প্রতি আমাদের দেশের ভেতরেই পর্যটক সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এক্ষেত্রে বিসিকের অবদান ১১ শতাংশ। শিল্প ক্ষেত্রে ১০ লক্ষের অধিক কর্মসংস্থান বিসিকেই হয়েছে যার মধ্যে তিন লক্ষের অধিক নারী। তিনি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক হস্তশিল্প পণ্যকে ২০২৪ সালের বর্ষপণ্য ঘোষণা করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ট্যুরিজম বোর্ড ও বিসিক আলাদা নয়। আমাদের দেশের পণ্যের বাজার ব্যাপক। রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বার্থে বিসিক ও ট্যুরিজম বোর্ডকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। সেমিনারে উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশটি আমাদের সবার, কাজেই দেশকে তুলে ধরা, দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অপার সৌন্দর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরা আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিশেষে, তিনি স্লোগান দিয়ে বলেন, ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে মাননী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সবাই এগিয়ে আসব এটাই হোক আজকের দিনে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশেষ অতিথি জনাব কামরুন নাহার সিদ্দীকা বলেন, “ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, টেক্সটাইল এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্যসমূহ বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সক্ষম।” সেমিনারের সভাপতি আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, “বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন।” জনাব জাবেদ আহমেদ তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ভূমিকা আরও সুসংহত করার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। তাছাড়া, পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় পণ্য ও সেবা উন্নয়নে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
সেমিনারে বিসিক ও ট্যুরিজম বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিল্প ও পর্যটন সংস্থা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও নীতি-নির্ধারকগণ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের শেষ পর্যায়ে একটি মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে উপস্থিত অতিথিরা তাদের মতামত ও প্রস্তাবনা প্রদান করেন। তাঁরা পর্যটন শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন এবং এসকল শিল্পের উন্নয়নে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরিশেষে, সেমিনারের আয়োজকরা উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আরও দেখুন

জনতা ব্যাংকে ইনোভেশন শোকেসিং অনুষ্ঠিত

ই-গভার্ন্যান্স ও উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা ২০২৩-২৪ মোতাবেক আওতাধীন অফিসসমূহের অংশগ্রহনে গত ০৮/০৫/২০২৪ তারিখে জনতা ব্যাংক ইনোভেশন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *