শিরোনাম

ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি ডাক্তার ডে ২০২৫ উপলক্ষে প্রাভা হেলথের বিশেষ আলোচনা সভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান

ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি ডাক্তার ডে এবং এ বছরের থিম “পরিবর্তনশীল বিশ্বে মানসিক সহনশীলতা গড়ে তোলা”- কে কেন্দ্র করে প্রাভা হেলথ এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠক ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এ আয়োজনে ফ্যামিলি মেডিসিন ডাক্তার, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও প্রাভা হেলথের নিয়মিত সেবাগ্রহনকারীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভায় বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা ও আগামী দিনের একটি সহনশীল এবং রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনের পথনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল সহানুভূতি, আস্থা এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সেবার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। আলোচনায় ফ্যামিলি মেডিসিন চিকিৎসা পদ্ধতির ভবিষ্যৎ, এই বিশেষায়িত চিকিৎসা শাখার জন্য নীতিগত স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা, হোম বেজড স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব এবং প্রাথমিক স্তরে মানসিক স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্তির জরুরি প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রাভা হেলথের সিইও মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ইমন আলোচনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে ফ্যামিলি মেডিসিন বিভাগ গঠনের শুরুর দিককার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি মেডিসিন ডাক্তাররা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং হাসপাতালমুখী না হয়ে মানুষকে সুস্থ রাখাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে তিনি প্রাভার নতুন উদ্যোগ হোম হেলথ সম্পর্কে জানান, যার মাধ্যমে এখন থেকে বাসায় বসেই চিকিৎসা পরামর্শ, ফিজিওথেরাপি, নার্সিং ও কেয়ারগিভিং সেবা সহ বিভিন্ন রকমের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যাবে। তাঁর মতে, “সত্যিকারের সুস্থতা শুরু হয় সেখানেই, যেখানে মানুষ সবচেয়ে স্বস্তিতে থাকে এবং সে জায়গাটাই আমাদের নিজের বাসা”।

এই গোলটেবিল বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন (CME), DGME-এর পরিচালক প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ শাদরুল আলম। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপান্তর শুরু হয় ঘর থেকেই- সহানুভূতি, শিক্ষা এবং আস্থার মাধ্যমে। পরিবার ভিত্তিক যত্ন, চিকিৎসা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং রোগী-ডাক্তারের সম্পর্ক মজবুত করে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি যা মানুষের আস্থা অর্জন করে এবং সেবাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।”

প্রাভা হেলথের চিফ অপারেটিং অফিসার ডা. সিমীন এম. আখতারের পরিচালনায় আলোচনায় উঠে আসে যে, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। ডা. সিমীন বলেন, “সহানুভূতি আর যত্নই প্রাভা হেলথের সেবার মূল ভিত্তি। রোগীরা চাইলে সবচেয়ে ছোট সমস্যার জন্যও আমাদের কাছে আসতে পারেন। এই রোগীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রাভার মানবিক, সহজলভ্য ও ব্যক্তিকৃত সেবার প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।”

প্রাভা হেলথের সিনিয়র কনসালটেন্ট (ফ্যামিলি মেডিসিন) ডা. শোয়েব আহমেদ বলেন, “একজন ফ্যামিলি মেডিসিন চিকিৎসক মানে আপনার পরিবারের এমন একজন, যিনি আপনাকে আর আপনার শারীরিক অবস্থাকে ভালোভাবে বুঝতে পারেন।”

সিআইবি ফাউন্ডেশন এবং কেয়ারগিভারস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রফেসর ডা. মো. বাসিদুল ইসলাম ফ্যামিলি মেডিসিন মডেলের ঐতিহ্য এবং এর ধারাবাহিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী যে আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য ফ্যামিলি ডক্টর সিস্টেমের সুফল পাবে।“

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাভা হেলথের রোগীরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী আমেনা রহমান বলেন, “প্রাভা হেলথ ক্লিনিক এর থেকেও বেশি, এটি এমন এটি একটি আস্থার স্থান, যেখানে আমরা সময়, মনোযোগ এবং আন্তরিক যত্ন পাই”। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী শাইয়া বলেন, “প্রাভার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো তারা মন দিয়ে প্যাশেন্টের কথা শোনে, যা আজকের দিনে অনেক কম দেখা যায়”।

আলোচনার শেষে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ভবিষ্যতের একটি মানবিক, সমতা-ভিত্তিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার জন্য আমাদের শুধুমাত্র নীতিমালা নয়, দরকার রোগী-চিকিৎসক সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং আস্থার ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন সম্ভব। সত্যিকারের স্বাস্থ্যসেবা রূপান্তর ঘটাতে হলে আমাদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে যেভাবে দেখা হয়, তা নতুনভাবে ভাবতে হবে।

 

প্রাভা হেলথ সম্পর্কে

প্রাভা হেলথ একটি পূর্ণাঙ্গ আউটপেশেন্ট হেলথকেয়ার প্ল্যাটফর্ম, যা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সেবার মাধ্যমে পরিবারকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। এটি প্রযুক্তি-ভিত্তিক একটি সেবাব্যবস্থা যেখানে প্রতিরোধমূলক, উন্নয়নমূলক ও চিকিৎসামূলক সেবা প্রদান করা হয় দীর্ঘমেয়াদী রোগী-চিকিৎসক সম্পর্কের মাধ্যমে।

প্রাভা দেশের প্রথম রোগী অ্যাপ চালু করে এবং ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য প্রথম মলিকুলার পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে। বাংলাদেশে এটি ১১টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ল্যাবের একটি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম প্রাভাকে গ্লোবাল ইনোভেটর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, ফাস্ট কোম্পানি এটিকে ‘ওয়ার্ল্ড চেঞ্জিং আইডিয়া’ হিসেবে নির্বাচন করেছে। হার্ভার্ড ও কলম্বিয়া বিজনেস স্কুল প্রাভাকে তাদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এটি ১০০টি ‘মিনিংফুল বিজনেস’-এর মধ্যে একটি যারা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (SDGs) জন্য কাজ করছে।

 

আরও দেখুন

ইউনিভার্সেল মেডিকেলের উদ্যোগে Top Ten Genius সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত

চলতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা–মে ২০২৫ এ সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী দশজন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *