শিরোনাম

৫৩৬ জন প্রশিক্ষিত নার্সিং শিক্ষক গড়ে তুলেছে জাইকা’র সিবিএনএস-২ প্রকল্প

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সহায়তায় ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব নার্সিং সার্ভিসেস ফেইজ-২ (সিবিএনএস-২)’ প্রকল্পের সমাপনী স্টেকহোল্ডার কর্মশালা আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিআইআরডিএপি’র এটিএম শামসুল হক অডিটোরিয়ামে ওয়ার্কশপটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্চ ২০২২ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত – চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায়, বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ওয়ার্কশপে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ), সরকারি নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেসময়, সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জনগুলো তুলে ধরা হয় এবং প্রকল্প-পরবর্তী সময়ে এসব কার্যক্রমগুলো টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া, প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি ‘সিবিএনএস মডেল’ উপস্থাপন করা হয়, যা নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার ধারাবাহিক উন্নয়নে একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মডেলটিতে ক্যাসকেড প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা, নার্সিং কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মডেলটি ভবিষ্যতে দেশের নার্সিং খাতের উন্নয়নে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিবিএনএস-২ প্রকল্পে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে; ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা উন্নয়ন, ৬৪ জন মাস্টার ট্রেইনার ও ৪৭২ জন ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক তৈরি, শিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচি, নার্সিং ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, প্রকলের আওতায় চারটি নার্সিং কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও আটটি সরকারি নার্সিং কলেজ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারে কাজ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জাইকা’র সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মরিকাওয়া ইয়ুকো বলেন, “আজকের ওয়ার্কশপের উদ্দেশ্য কেবল এই প্রকল্পের অর্জনগুলো তুলে ধরা নয় বরং ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া ও বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়ন করা যায় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টরা কেমন ভূমিকা রাখতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। সিবিএনএস-২ সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ায়, ব্যক্তিগতভাবে এর ভবিষ্যত সাফল্য নিয়েও আমি আশাবাদী।”

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার উন্নয়ন দেখে আমি ভীষণ আনন্দিত। সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জনগুলো দেশের নার্সিং কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় বাস্তবায়ন করা হলে তা বৃহত্তর কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আমার বিশ্বাস।”

আলোচনাকালে, অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের দক্ষতা কাজে লাগানো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা ও কার্যক্রমগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারের ক্ষেত্রে মতামত জানান। সেসময় নার্সিং খাতের উন্নয়নে সরকারি সংস্থা, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সিবিএনএস মডেল ও সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে দেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল সেবার মানোন্নয়ন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মাধ্যমে ওয়ার্কশপ সমাপ্ত হয়।

আরও দেখুন

বিভিন্ন খাতের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাইবার সক্ষমতা জোরদার করবে ফিনিক্স সামিট ২০২৬

দেশের অন্যতম শীর্ষ সাইবার সিকিউরিটি কনভারজেন্স প্ল্যাটফর্ম দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি) ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’-এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *