শিরোনাম

মেডিকেল ইভাকুয়েশন মিশনে নিয়োজিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ঢাকায় জরুরি অবতরণ

তারিখ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬:

ভারতের আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর থেকে মেডিকেল ইভাকুয়েশন (মেডেভাক) মিশনে নিয়োজিত Beechcraft King Air C90A মডেলের VT-HYA নিবন্ধন নম্বরধারী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আজ ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতীয় সময় ১৩০৫ ঘটিকায় আগরতলা থেকে ০২ জন ক্রু সদস্য, একজন রোগী, একজন চিকিৎসক ও একজন প্যারামেডিকসহ মোট ০৭ জন আরোহী নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। উড়োজাহাজটি ১২,০০০ ফুট উচ্চতা অতিক্রমকালে কেবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় (কেবিন প্রেসারাইজেশন) ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে উড়োজাহাজের প্রধান দরজাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আংশিকভাবে খুলে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

জরুরি অবতরণের পূর্বেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় জরুরি সাড়া প্রদানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং উড়োজাহাজের আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিমানবন্দরের জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী যান, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট সকল জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়। পরবর্তীতে উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় ১৩৪০ ঘটিকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা সকল ক্রু সদস্য ও অন্যান্য আরোহী নিরাপদে থাকলেও, উড়োজাহাজে পরিবহন করা রোগীকে দ্রুত কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ক্রু সদস্য ও অন্যান্য আরোহীদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না থাকলেও, মানবিক বিবেচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ছাড়পত্র প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেন।

ঘটনাস্থলে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, সদস্য (পরিচালনা), সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন করেন।

আরও দেখুন

আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা ঘিরে বৈশ্বিক বৈষম্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, বহুজাতিক করপোরেশনের মুনাফাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *