শিরোনাম

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্বারোপ, সমাপনী দিনে ফিনিক্স সামিট ২০২৬

বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্বারোপ ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সাইবার সিকিউরিটি কনভারজেন্স প্ল্যাটফর্ম ফিনিক্স সামিট ২০২৬ আজ শনিবার (২৭ জুন) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ‘ক্লোজিং দ্য সাইবার গ্যাপ ইন ইমার্জিং ইকোনোমিস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। অনুষ্ঠানে সরকারি নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সামিটের মূল কনফারেন্সে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল সহনশীলতা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সাইবার হুমকি মোকাবিলা বিষয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সম্প্রতি চীন সফরে তাদের নীতিনির্ধারকদের সাথে প্রযুক্তি বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কীভাবে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সফট পাওয়ার কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করছেন। আমাদের দেশের জনসংখ্যার বড় অংশই নবীন। এই ডেমোগ্রাফিক বাস্তবতা আমাদের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে, যদি আমরা তা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারি। এই আয়োজন থেকে বোঝা যাচ্ছে আমাদের তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আয়োজনের উদ্যোক্তাদের আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের ফাউন্ডার ও চিফ অব রিসার্চ এএসএম শামীম রেজা বলেন, “ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার একটি যৌথ উদ্যোগ। গত কয়েকদিনে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সামিটে যে জ্ঞান-বিনিময়, সহযোগিতার সুযোগ এবং নতুন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি, এখান থেকে তৈরি হওয়া সংযোগ ও উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথকে সুদৃঢ় করবে।”
দেশের অন্যতম শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোগ দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি), পাওয়ার্ড বাই ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ১০ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সেশন, কর্মশালা, প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে যুক্ত হন। সামিটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৭৩টি স্টল অংশ নেয়। এতে, ক্লাব পার্টনার হিসেবে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও নলেজ পার্টনার হিসেবে দেশি-বিদেশি ৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
সামিটে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংগঠনটির সদস্যদের নিষ্ঠা, দলগত প্রচেষ্টা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সাইবার নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডোমেইন) জয়ীতা সেন রিম্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে আজীবন নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (সিআইও) সুমন আহমেদ সাবিরকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অনার অ্যাওয়ার্ড) প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সাইবার নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান এবং নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া সামিটের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন টেকনিক্যাল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসিএসএ) সহযোগিতায় ‘প্র্যাক্টিক্যাল সাইবার ইনভেস্টিগেশন’ কর্মশালা বিশেষভাবে অংশগ্রহণকারীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া ‘ডেভসেকঅপস ফর প্র্যাকটিশনার্স’, ‘মাস্টার অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি: ভালনারেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং’ এবং ‘র‍্যানসামওয়্যার মেকানিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
সামিটটি সফল হতে সহযোগিতা করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ)। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও ইন অ্যাসোসিয়েশন উইথ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এক্সেনটেক পিএলসি। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল), ম্যাগনাস কর্পোরেশন, সান্স ইনস্টিটিউট, এমজিএইচ, মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্স ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি ও ম্যাক্সক্রিট। এছাড়াও, ব্রোঞ্জ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এগ্রোশিফট, গোল্ড কিনেন, এপনিক, বিজিআই, সাইহাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সিটিজেনস ব্যাংক, বেঙ্গল ইনফোসেক লিমিটেড ও অরেঞ্জ সল্যুশন লিমিটেড। সাইবার সিকিউরিটি নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে এপনিক, সান্স ইনস্টিটিউট ও রিসিকিউরিটি। পাশাপাশি, ফেলোশিপ পার্টনার হিসেবে ফ্ল্যাক্সঅপ্টিক্স জিএমবিএইচ ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে এসসিআইটিপি ও আইএসপিএবি রয়েছে। বিস্তারিত জানতে ওয়েবসাইট www.phoenixsummit.net ভিজিট করুন।

আরও দেখুন

দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শাওমির নতুন ৫ লাইফস্টাইল ডিভাইস

ঢাকা, ২৫ জুন, ২০২৬ –   গ্লোবাল টেক জায়ান্ট শাওমি দেশের বাজারে নিয়ে এসেছে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *