ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড, ন্যায্য রূপান্তর এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও কপ৩১ -এ বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ অডিটোরিয়ামে “জলবায়ু ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে জলবায়ু কূটনীতি” শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নকে বাস্তব ও সহজলভ্য করতে হবে এবং তা যেন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে না দেয়। একইসঙ্গে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, সাশ্রয়ী পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার এবং নারী ও শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের অসম প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত ও ন্যায্য রূপান্তর (Just Transition) নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, এসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল এমপাওয়ারমেন্ট (এপিই), ব্রাইটার্স ও সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি)-এর যৌথ আয়োজনে এবং সচেতন ফাউন্ডেশন, ওএবি ফাউন্ডেশন, তরঙ্গ ফাউন্ডেশন, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইয়েডো) ও ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ইউক্যান) এর সহ-আয়োজনে এই সংলাপের আয়োজন করা হয় ।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও কপ৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চারটি বিষয়ে জোর দেবে—প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড ও জলবায়ু তহবিলকে এগিয়ে নেওয়া; ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে পূর্বানুমেয়, সহজলভ্য ও অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা; শ্রমিক ও জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং সাশ্রয়ী পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে প্রকৃত ন্যায্য রূপান্তর বাস্তবায়ন; এবং নারী ও শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের অসম প্রভাব বিবেচনায় জেন্ডার-সংবেদনশীল নীতি গ্রহণ। বাংলাদেশ শুধু দাবি জানাতে নয়, নিজস্ব দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার নিয়েও এগিয়ে আসছে—আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ তারই অংশ।
নির্ধারিত আলোচক, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান, বলেন, মূল কথাটি হচ্ছে তিনটি। একটা হচ্ছে আমাদের যে প্রতিশ্রুতিগুলো আছে সেগুলো গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে এবং মনিটর করতে হবে। ডিকার্বনাইজেশনের যতগুলো প্রযুক্তি আছে, সবগুলো সহজলভ্য করতে হবে এবং আমাদেরকে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া যাবে না, যতক্ষণ না আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় বিকল্প থাকে। আমাদের যতগুলো শিল্প আছে, সেগুলো চালু রাখতে হবে।
নির্ধারিত আলোচক, এল ডি সি’স গ্রুপের ক্লাইমেট নেগোশিয়েটর, এম. হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। কূটনীতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব, টেকনিক্যাল বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমন্বিত ভূমিকা—এই তিনটির সমন্বয়েই বাংলাদেশ কার্যকর জলবায়ু কূটনীতি পরিচালনা করতে পারে।
নির্ধারিত আলোচক, সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)-এর চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আমরা আশা করব, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং তার পরবর্তীতে আনাতালিয়াতে কপ৩১-এ বাংলাদেশ তার অবস্থান সুস্পষ্ট করবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় এবার যেন বাংলাদেশের অবস্থান সরাসরি বৈশ্বিক দরবারে উপস্থাপন করা যায়, সেই সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
সংলাপে সরকার, নাগরিক সমাজ, তরুণ নেতৃত্বাধীন সংগঠন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে শুধু জলবায়ু সহায়তার দাবিদার দেশ হিসেবে নয়, বরং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে সক্রিয় ও কৌশলগত নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে হবে।
businessbarta.com সবার জন্য businessbarta.com