শিরোনাম

বেবিচকে সুশাসনের পথে বাধা:

অপপ্রচারের মুখে সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর সদস্য (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো নানা ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের বিষয়টি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভেতরে ও বাইরে অনেকেই মনে করছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার কঠোর ও অনড় অবস্থানকেই লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
১৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তার মেধা, যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সত্ত্বেও ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার পদোন্নতির সুযোগ হারিয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে তার ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক অগ্রগতি দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত ছিল। প্রশাসনে তার সততা, দৃঢ় মনোবল ও নীতি-আদর্শের কারণে তিনি বারবার উপেক্ষিত হন।
তবে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে অবশেষে বর্তমান সরকারের আমলে তার কর্মজীবনে আসে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট তিনি পদোন্নতি লাভ করেন। এই পদোন্নতি কেবল তার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানই ঘটায়নি, বরং তাকে নতুন উদ্যমে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ এনে দিয়েছে।
সেতু বিভাগে দায়িত্বকালীন সময়ে এস এম লাবলুর রহমান তার দক্ষতা ও দৃঢ় প্রশাসনিক মনোভাবের মাধ্যমে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি কখন কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেনি। সেতু বিভাগে কাজ করার সময় তিনি সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন সেতু সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম তার উপর বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করেন কিন্তু তিনি রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখতেন এবং কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রভাবশালী মহলের চাপ মেনে নেননি। তার কার্যকরী পদক্ষেপে ঠিকাদারদের অযৌক্তিক সুবিধা বন্ধ হয় এবং সরকারের ব্যয় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়। তবে এই কঠোর অবস্থান কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত হানে, যার ফলে তাকে সেতু বিভাগ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরে বদলি করা হয়।বেবিচকে সদস্য (অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই এস এম লাবলুর রহমান দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটের লক্ষ্যবস্তু হন। কাজ না করেই বিল অনুমোদন, আইন উপেক্ষা, ঘুষ ও ব্যক্তিগত সুবিধার বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাত হানে। প্রতিটি ফাইল যাচাই-বাছাই করে তিনি নিশ্চিত করেন সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন অবৈধ সুবিধা ভোগ করা মহল তার সততা ও নীতিকে হুমকি মনে করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। সিভিল এভিয়েশনে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

তার সততা, দৃঢ়তা ও নীতির কারণে এ মহল নিজেদের দুর্নীতি ও অনিয়ম আড়াল করার জন্য কৌশলগতভাবে তাকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করছে। নানা বেনামী অভিযোগ, মিথ্যা প্রচার এবং ব্যক্তিগতভাবে অপমান করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে যেন তিনি নীতি থেকে সরে দাঁড়ান এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়।
অন্যদিকে, একটি প্রভাবশালী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে যে, এস এম লাবলুর রহমান ২০১৮ বা ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে কোনো দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ভিত্তিহীন গুজবের মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কিন্তু অনুসন্ধান করে জানা যায়, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বাস্তবে তিনি কোনো ধরনের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেননি। তার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা মূলত তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি কৌশল মাত্র।
মূলত একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের মিথ্যা অভিযোগ এনে একটি গোষ্ঠী তাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই অভিযোগগুলো কেবল মিথ্যাই নয়, বরং ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ।
সম্প্রতি এস এম লাবলুর রহমান সদস্য (অর্থ) পদ থেকে সরাসরি সদস্য (প্রশাসন) পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এই দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নতুন ধারা সূচনা করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করেননি, বরং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও ধীরগতির অবসান ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন।
এর আগে বিভিন্ন কারণে প্রশাসনের ভেতরে স্থবিরতা, জটিলতা এবং কাজের অগ্রগতিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে থাকত, ফলে কার্যক্রমে দেখা দিত ধীরগতি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও হতাশা।
কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর এস এম লাবলুর রহমান তার দক্ষতা, সততা ও দৃঢ় প্রশাসনিক মনোভাবের মাধ্যমে এই স্থবির পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠেন। তার নেতৃত্বে ফাইল নিষ্পত্তি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসেছে গতি ও স্বচ্ছতা। প্রতিটি কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে চলছে, যা প্রশাসনের সামগ্রিক কর্মক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এস এম লাবলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় এসেছে গতি ও স্বচ্ছতা। আগে যেখানে একটি ফাইল অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত, এখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে দ্রুততার সঙ্গে তা সম্পন্ন হচ্ছে। এর ফলে কাজের অগ্রগতি বেড়েছে এবং সবার মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের আস্থার পরিবেশ।
তারা আরও জানান, প্রতিটি কাজ এখন নিয়মের মধ্য দিয়ে সঠিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে। কোনো ধরনের শর্টকাট পদ্ধতি বা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার সুযোগ নেই। এতে করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক মনোভাব।

আরও দেখুন

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে অংশীজন অন্তর্ভুক্তিতে সরকারের অনাগ্রহ নিয়ে উদ্বিগ্ন তামাক শিল্প

তামাক শিল্পের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীর ক্ষেত্রে যথাযথ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *