শিরোনাম

একজন মানবিক ডাক্তারের আত্মসমালোচনা

  • ডা: মো: জসিম উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, শ্রীনগর, ২১ তম বিসিএস:-

আলহামদুলিল্লাহ। মালিকান্দা গ্রামে চার জন গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত। বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হয়ে এলাকার সেবা করা। সকালে সরকারি চাকরি তারা বুঝতেন না। তারা বুঝতেন এলাকায় সেবা দেওয়ার ব্যাপারটা। আমাকে নিয়ে গর্ব করতেন। স্কুল জীবনে আমার বিপক্ষে কথা বলার লোক ছিল না।সরকারি চাকরি আমার ইচ্ছা ছিল না। অবশেষে পারিবারিক চাপে পড়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করি। সরকারি চাকরিতে হাজার চেষ্টা করেও সম্মান নিয়ে চলা খুব কঠিন। এজন্য আমার স্ত্রী সার্বক্ষণিক উৎসাহ তদারকি এবং মানসিক সাপোর্ট দেয়। আমাকে নিয়ে সে গর্ব করে। এতোটুকু বিশ্বাস আল্লাহর উপর আমার উপর যারা জুলুম করে তাদের বিচার আমি করতে পারি না,করার ক্ষমতাও নাই কিন্তু আল্লাহর হিসেবে কোন ত্রুটি হয় না।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু বিভাগে ১৯৯৯-২০০০ সালে অনারারি ট্রেনিং করি এক বছর। পাশাপাশি গুলশান মা ও শিশু ক্লিনিকে ডিউটি ডাক্তার হিসেবে চাকরি করার সুবাদে প্রফেসর এম কিউকে তালুকদার স্যার, তার ছেলে বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক খোরশেদ আলম এবং তাঁর মেয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ শায়লা তালুকদার আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। একাডেমিক শিক্ষা এবং মানবতা তাদের কাছ থেকে শিখেছি। গুলশানের মত এলাকায় ভর্তি শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করার যে সুযোগ পেয়েছি প্রায় দুই বছর।আমি মনে করলাম এলাকায় মানুষ এই সেবা পায় না। এখনো কাঙ্কিত সেবা দোহারে পাচ্ছে না।

আমি চাকরি ছেড়ে চলে আসলাম এলাকায়। মেঘুলা বাজারে পৈত্রিক সম্পত্তির উপর একটি চেম্বার দিলাম। ২০০৩ সালে প্রথম পোস্টিং চরভদ্রাসন। ২০০৪ সালে অক্টোবর মাসে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা মহোদয়ের সুপারিশে দোহারে আসার সুযোগ পাই। সহায়তা করে আমার ক্লাসমেট শামীম আহসান। তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রীর এপিএস হিসেবে কর্মরত ছিল।
বিভিন্ন সরকার এবং নেতা এসেছে আমি নিরপেক্ষভাবে এলাকার সেবা দিয়েছি। রাজনৈতিক প্রভাব আমাকে বিচলিত করতে পারেনি। আমাকে সহায়তা করেছে এলাকার স্বার্থে।
কিছু মানুষ অপপ্রচারে ভুল বুঝেছে আমার বিপক্ষে লেগে দোহারের চিকিৎসা সেবায় অনেক বেশি ক্ষতি করে ফেলেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দোহারের হাসপাতালের কর্মচারীদের মনোবল আগের মত নাই। দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন কর্মচারীরা ঠিকই জানে আমার পকেট থেকে কিভাবে টাকা খরচ করেছি ব্যক্তিগত ইনকামের টাকা। কিন্তু যাদের স্বার্থে আঘাতে গেছে তারা অপপ্রচারে নেমেছে। জনস্বার্থে আমার মত আন্তরিক সেবা তারা দিতে পারে নাই।প্রতিদিন যত মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হবে হয়রানি হবে এদের বদদোয়া এবং অভিশাপ এর দায়ভার নিতে হবে। যারা মানুষকে অসহায় বানিয়েছে আল্লাহ তাদেরকেও এর নজির দেখাবে। ইনশাল্লাহ।
আমার সাথে যারা বিদ্রুপ আচরণ করেছে তাদেরকে আল্লাহ হেদায়েত করুক। আমার পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ নাই। দোহারের জনগণের স্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে অবশ্যই অসহায়দের পাশে দাঁড়াবো। যে ছোট্ট শিশুটিকে আমি চিকিৎসা করেছি সে মা-বাবা হয়ে আবার তারই শিশু কোলে করে আমার চেম্বার আসে দীর্ঘদিনের এই পরিচিতি কারো সম্ভব মুছে ফেলা?আমার বাড়ি দোহার উপজেলায়। যারা বাইরে থেকে এসে নিজের স্বার্থে ধান্দা করবে এবং কাজ শেষে চলে যাবে তাদের কোন দায়বদ্ধতা নাই। রোগীর অপারেশন লাগবেনা অপারেশন করবে। লাগবে নরমাল ডেলিভারি, করবে সিজারিয়ান।দোহারে প্রতি মাসে তিনশোর অধিক সিজারিয়ান অপারেশন হয়। আমি চাই আদ্ দীন হাসপাতালের মত দোহারে মহিলা বান্ধব একটি হাসপাতাল তৈরি হয়।
যেহেতু দোহারের বাহিরে আমার কোন ঠিকানা নাই অতএব যতদিন আল্লাহ জীবিত রাখে দোহারে থাকবো ইনশাল্লাহ। সরকারি চাকুরী আর কয়েক বছর আছে। রিটায়ার্ড হয়ে গেলে এলাকায় বেশি সময় দিব যদি ইনশাল্লাহ। আল্লাহ সুস্থ রাখে।
আমি দোষে গুণে একজন সাধারন মানুষ। কিন্তু আমাকে অনেক বেশি সহযোগিতা দিয়েছেন সম্মানিত করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।

আরও দেখুন

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৪ টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্রবিন্দু। পারিপার্শ্বিক সাপেক্ষে অধিকতর স্বাস্থ্যসেবা পেতে করণীয়:

১. জনবল সংকট সমাধান: আউটসোর্সিং ১০ জন কর্মচারী জুলাই ২০২৫ থেকে বেতন ভাতা পাচ্ছে না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *